প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধানে পরপর দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। যা কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুভূত হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার পরে দুই দফায় এ ভূমিকম্প অনুভূত হয় । দুটো ভূমিকম্পেরই উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার। রিখটার স্কেলে দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ২।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষেণ কেন্দ্রের সূত্র জানিয়েছে, দেশের অনেক স্থানে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের ইয়েনাংগুনের মিনবু এলাকায়, যা ঢাকা ভূমিকম্প কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫২১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
এর প্রায় ১৭ মিনিট পর রাত ৯টা ৫১ মিনিটে একই উৎপত্তিস্থল থেকে আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২।
ইউএসজিএস বলছে, প্রথম ভূমিকম্পটির গুলোর উৎপত্তি ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬২ দশমিক ৭ কিলোমিটার গভীরে।আর পরবর্তী ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার গভীরে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা বলেন, প্রথম দফায় বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিট ১ সেকেন্ডের সময় ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। পরে ৯টা ৫১ মিনিটে আরেক দফা ভূমিকম্প হয়। এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২।
প্রথম দফায় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের মিংডু বলে জানায় আবহাওয়া অফিস। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ৫২১ কিলোমিটার। পরের এলাকাটির দূরত্ব নির্ণয়ের চেষ্টা করছে আবহাওয়া অফিস।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান,ভূমিকম্পটি কক্সবাজার ছাড়াও রামু,উখিয়া,টেকনাফসহ আশপাশের এলাকায় অনুভূত হয়।এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলান আচার্য বলেন, কক্সবাজারে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন ধরণের দূর্ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতির খবর আসেনি।
ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার গণমাধ্যমকে বলেন, মিয়ানমারের যে এলাকায় ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে, এটি বস্তুত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। এটি সাবডাকশন জোনের মধ্যে পড়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশে ততটা হয় না।
দুটি প্লেটের সংযোগস্থলকে গবেষকেরা বলেন সাবডাকশন জোন। এর মানে, একটি প্লেটের নিচে যখন আরেকটি প্লেট তলিয়ে যায়। বাংলাদেশে এই সাবডাকশন জোন সিলেট থেকে কক্সবাজারের পাহাড়ি অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত।