কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের নির্দেশনায় মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো বর্ষা মৌসুমের আগে জরুরি ভিত্তিতে (ইমার্জেন্সি ওয়ার্ক) মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গতকাল সোমবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ নুরুল ইসলামসহ দফতরের অন্যান্য কর্মকর্তা কুতুবদিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্পটে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন। সরেজমিন এ পরিদর্শনে ভাঙনপ্রবণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করা হয়।
দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী ও কুতুবদিয়া দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মারাত্মক ধাক্কা সামাল দিচ্ছে। বর্ষা ও উঁচু জোয়ারের সময় প্রায়ই বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মৎস্যঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বেশি উচ্চতার জোয়ারের পানি বেড়িবাঁধ উপচে কিংবা ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়ার ঘটনা অতীতেও বারবার ঘটেছে। এর ফলে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার চারদিকে একাধিক স্থানে বাঁধ ভাঙন, ভূমি ক্ষয় ও মানুষজনের পুনর্বাসন সংকট দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও বাস্তবে কাজ হয়েছে খণ্ডিত ও সাময়িকভাবে; ঝড়–জলোচ্ছ্বাসের মৌসুম এলে আবারও ঝুঁকি বাড়ে। ভাঙনরোধে কোথাও জিওব্যাগ, কোথাও মাটি ফেলে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে সমন্বিত পরিকল্পনা ও শক্ত বাঁধ নির্মাণ হয়নি বলে তাদের অভিযোগ। তাদের আশঙ্কা, বর্ষার আগে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরের জোয়ারেই নতুন করে প্লাবন ও ভাঙনের শিকার হতে হতে পারে উপকূলীয় জনপদ।
এ অবস্থায় আসন্ন বর্ষার আগেই মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দ্রুত জরুরি সংস্কারকাজ শুরুর তাগিদ এসেছে স্থানীয় সচেতন বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী মানুষের কাছ থেকে। দ্বীপের বিভিন্ন অংশে ক্ষতিগ্রস্ত দুই–তিন কিলোমিটারের বেশি বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ার–ভাটা সরাসরি ওঠানামা করায় ফসলি জমি, মৎস্যঘের, বসতবাড়ি ও সড়কসহ সামাজিক অবকাঠামো বারবার হুমকির মুখে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পরিদর্শনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে এসব ক্ষতিগ্রস্ত অংশ তালিকাভুক্ত করে বর্ষার আগে জরুরি মেরামতের পরিকল্পনা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও পাউবো সূত্রে জানা যায়, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার একাধিক অংশকে ইতোমধ্যে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে উচ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি মেরামত ও টেকসই বাঁধ প্রকল্পের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ের সর্বশেষ পরিদর্শনের পর আগামী কিছু দিনের মধ্যেই বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের অংশে মেরামত কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্বীপবাসীর প্রত্যাশা, বাস্তবে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং সংস্কার নিশ্চিত হয়, যাতে আরেকটি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন ও প্লাবনের আতঙ্কে দিন কাটাতে না হয়।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেন, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপকূলের মানুষকে বারবার প্লাবন ও ভাঙনের শিকার হতে দেওয়া যাবে না। বর্ষার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ সব বেড়িবাঁধে জরুরি মেরামত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দফতরকে আমি কঠোরভাবে নির্দেশনা দিয়েছি। কাজের অগ্রগতি আমি নিজে মনিটর করব, ইনশাআল্লাহ।