উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কক্সবাজারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় জেলার ৪ টি সংসদীয় আসনের সব ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে বিভিন্ন কেন্দ্রে। এ পর্যন্ত জেলার কোথাও অপ্রিতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সকালে সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা যায়, ভোটাররা তাদের মূল্যবান ভোটটি প্রয়োগ করতে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। নারী এবং পুরুষ ভোটারদের জন্য আলাদা লাইন করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি আগেই থেকেই নেওয়া হয়। ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন। একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালট, আরেকটি গোলাপি ব্যালট গণভোট দেওয়ার জন্য।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কক্সবাজার জেলায় ১৩ হাজার ৪৯৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ২ হাজার ১৬৬ জন সেনাসদস্য, ৮৮০ জন বিজিবি সদস্য, ৩৯৯ জন নৌবাহিনীর সদস্য, ৫০ জন বিমানবাহিনীর সদস্য, ১৪৫ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ৮০ জন র্যাব সদস্য, ১৯০ জন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য ও ১ হাজার ৮১৫ জন পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া ৭ হাজার ৭৭৪ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।
সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া-পেকুয়া, উখিয়া-টেকনাফ ও মহেশখালী-কুতুবদিয়া- এই চারটি আসনে মোট ভোটার ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৭ জন। ৫৯৮টি ভোটকেন্দ্রের ৩ হাজার ৬৮৯টি কক্ষে ভোটগ্রহণ পরিচালনা করছেন ১২ হাজার ২৫১ জন নির্বাচন কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রয়েছেন ৪ হাজার ৫০৩ জন এবং পোলিং কর্মকর্তা ৭ হাজার ৭৪৮ জন।
জেলা প্রশাসক মো: আ মান্নান জানান, ভোটারদের নিরাপদ ও ভয়ভীতিহীন পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নজরদারি রাখা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।