ঈদের লম্বা ছুটি এলেই ব্যস্ত নগরজীবন থেকে একটু মুক্তি পেতে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন অনেকে। আর সেই তালিকার শীর্ষে থাকে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত ‘কক্সবাজার’। নীল সমুদ্র, পাহাড়ের ছায়া আর বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি মিলিয়ে এটি যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত চিত্র। তাই এবারের ঈদে পরিবার নিয়ে ঘুরে আসার জন্য এটি হতে পারে দারুণ একটি গন্তব্য। তবে শুধু লাবণী, সুগন্ধা বা কলাতলী সৈকতেই সীমাবদ্ধ না থেকে খুঁজে নিতে পারেন ভিন্নতা-উপভোগ করতে পারেন নির্জন সৈকত, সমুদ্র-পাহাড়ের মিতালি আর আশপাশের মনোমুগ্ধকর দ্বীপগুলো।
কক্সবাজারের আদি নাম ছিল পালংকী। ১৭৯৯ সালে ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স নামের এক কর্মকর্তা এখানে এসে একটি বাজার স্থাপন করেন। তার নাম অনুসারেই ‘কক্স সাহেবের বাজার’ থেকে ধীরে ধীরে ‘কক্সবাজার’ নামের প্রচলন হয়। ভৌগোলিকভাবে কক্সবাজারের উত্তরে চট্টগ্রাম, পূর্বে বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও মিয়ানমার, আর পশ্চিম ও দক্ষিণে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। প্রায় ২,৪৯১ দশমিক ৮৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ জেলায় রয়েছে পাঁচটি নদী-মাতামুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কোহালিয়া ও নাফ নদী।
কক্সবাজারে কি কি দেখবেন?
প্রাচীন ঐতিহ্য
কক্সবাজারে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা এখানকার প্রাচীন ঐতিহ্যগুলোও ঘুরে দেখেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আজগবি মসজিদ। এটি ১৬০০-১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে শাহ সুজার আমলে নির্মিত হয়। মসজিদটি চৌধুরীপাড়া মসজিদ নামেও পরিচিত এবং কক্সবাজার পৌরসভার বিজিবি ক্যাম্পের উত্তরে অবস্থিত।
অগ্গ মেধা বৌদ্ধ ক্যাং
কক্সবাজার শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে সাতটিরও বেশি বৌদ্ধ ক্যাং রয়েছে। এর মধ্যে অগ্গ মেধা ক্যাং ও মাহাসিংদোগী ক্যাং সবচেয়ে বড়। এসব ক্যাংয়ে স্থাপিত বৌদ্ধ মূর্তিগুলো দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বৌদ্ধ পূর্ণিমা, প্রবারণা পূর্ণিমা ও বিষু উৎসব এসব ক্যাংয়ে উদযাপন করা হয়।
সমুদ্রের নিচের রহস্য-রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড
সমুদ্রের অজানা রহস্য ও নানা প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী নিয়ে কক্সবাজারে গড়ে উঠেছে দেশের প্রথম সি-অ্যাকুরিয়াম ‘রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড’। এখানে ৭০ কেজি ওজনের ক্যাটফিশ, প্রায় ৬৫ কেজির কাছিমসহ গভীর সাগরের প্রায় দুই শতাধিক প্রজাতির বিরল মাছ ও প্রাণী দেখা যায়।
ঝাউতলায় অবস্থিত এই অ্যাকুরিয়ামটি বিভিন্ন জোনে সাজানো, যেখানে সমুদ্রতলের জীবন্ত পরিবেশ তুলে ধরা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি নজরদারি, শপিং সুবিধা এবং শিশুদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে। বিনোদনের পাশাপাশি এটি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র।
রাডার স্টেশন
হিলটপ সার্কিট হাউসের দক্ষিণ পাশের চূড়ায় কক্সবাজার রাডার স্টেশন অবস্থিত। এখান থেকেই দেশব্যাপী ঝড়, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস দেয়া হয়। রাডারটি ১৯৬৮ সালে সুইডিশ শিশুকল্যাণ সংস্থা ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় স্থাপন করা হয়। পরে জাপান সরকারের সহায়তায় এটি আধুনিকীকরণ করা হয়।
হিলটপ সার্কিট হাউস
জেলা পরিষদ ভবনের পশ্চিম-দক্ষিণে পাহাড়ের চূড়ায় মনোরম পরিবেশে অবস্থিত হিলটপ সার্কিট হাউস। এখানে গেলে অনেকটা ভারতের দার্জিলিংয়ের মতো অনুভূতি পাওয়া যায়। চূড়া থেকে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ এবং পুরো পর্যটন নগরীর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
লাবণী সৈকত
কক্সবাজারের সবচেয়ে জনপ্রিয় সৈকতগুলোর একটি লাবণী সৈকত। অনেকেই এটিকে কক্সবাজারের সবচেয়ে সুন্দর সৈকত হিসেবে মনে করেন। এখানে থাকা-খাওয়া, যাতায়াতসহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধা সহজেই পাওয়া যায়। কাছেই রয়েছে অসংখ্য ছোট দোকান, যেখানে ঝিনুকের তৈরি উপহার সামগ্রী ও অলংকার বিক্রি হয়।
এছাড়া সমুদ্র ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় নানা জিনিস যেমন হাফ প্যান্ট, থ্রি-কোয়ার্টার, হ্যাট, ক্যাপ, ছাতা ও চশমা পাওয়া যায়। এই সৈকতে সার্ফিং এবং বিচ বাইক চালানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।
সুগন্ধা সৈকত
সমুদ্রস্নানের প্রকৃত স্বাদ নিতে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক সুগন্ধা সৈকতে ভিড় করেন। এখানে সমুদ্রস্নানের পাশাপাশি স্কি-বোটে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। সৈকতের পাশের দোকানগুলোতে সামুদ্রিক তাজা মাছের বিভিন্ন পদও পাওয়া যায়, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
এছাড়া চাঁদের আলোয় এই সৈকতে হাঁটার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অনুভূতি তৈরি করে।
মন-মাতানো ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ
কক্সবাজারের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য এই মনমাতানো ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ। কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে কিছু অংশে সাগর ছুঁতে পারেনি এই সড়ক, তাই মেরিন ড্রাইভের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে যেতে হবে দরিয়ানগর থেকে। সেখান থেকে টেকনাফ সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত একটানা বিস্তৃত এই পথ। ভ্রমণের শুরুতেই হিমছড়িতে যাত্রাবিরতি নিতে পারেন।
হিমছড়ির পাহাড়চূড়া থেকে পাখির চোখে দেখা যায় পুরো সড়কটি, আর দিগন্তজোড়া নীল সমুদ্র। সেখান থেকে কিছুটা এগোলেই ভাটার সময় সমুদ্র সৈকতে লাল কাঁকড়ার দল দেখা যায়। এরপর পথে রেজুখাল এলাকা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর। একপাশে সুপারি গাছের সারি, অন্যপাশে ঝাউবন-দুই পাশে শ্বাসমূলীয় বন এই জায়গাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
রেজুখাল থেকে অল্প দূরেই ইনানী সমুদ্র সৈকত। ভাটার সময় এখানে জেগে ওঠা মৃত প্রবালের মাঝে সময় কাটানো বেশ উপভোগ্য। ইনানীর পরেই জালিয়াপালং, যেখানে রয়েছে আধুনিক রয়েল টিউলিপ বিচ রিসোর্ট। সাগরের পাশে নির্জনে সময় কাটানোর জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা।
এরপর শুরু হয় পাহাড়ঘেরা নির্জন মেরিন ড্রাইভ। এখানে সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন ছাড়া আর তেমন কোনো শব্দ শোনা যায় না। পথে দেখা মেলে চিংড়ি পোনা সংগ্রহে ব্যস্ত মানুষের। কিছুদূর এগোলেই চোখে পড়বে পাতুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত, যাকে অনেকেই নতুন সেন্টমার্টিন বলে থাকেন। জোয়ারে পাথরগুলো পানির নিচে ডুবে থাকে, আর ভাটায় সেগুলো ভেসে ওঠে-যা সেন্টমার্টিনের মতোই দৃশ্য তৈরি করে।
কক্সবাজার থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে শামলাপুর, একটি নির্জন ও সুন্দর সমুদ্র সৈকত। সেখান থেকে কিছুদূর সামনে হাজামপাড়া, যেখানে জেলে নৌকা আর কর্মব্যস্ত জেলেদের দেখা মেলে। এরপর শীলখালি, যেখানে একপাশে গর্জন বন আর অন্যপাশে সমুদ্র সৈকত-দৃশ্যটি অনেকেই সেন্টমার্টিনের সঙ্গে মিল খুঁজে পান।
হাজামপাড়া পেরিয়ে দরগার ছড়া এলাকায় পাহাড়, সমুদ্র আর রঙিন জেলে নৌকার সমন্বয়ে তৈরি হয় ভিন্ন এক পরিবেশ। সেখান থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে টেকনাফ সমুদ্র সৈকত। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও নির্জন সৈকতগুলোর একটি। এখানেই শেষ হয় ৮০ কিলোমিটারের এই মেরিন ড্রাইভ, যা দেশের অন্যতম নতুন ও আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য।
মাথিনের কূপ
টেকনাফে রয়েছে ঐতিহাসিক ‘মাথিনের কূপ’। উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ধীরাজ ভট্টাচার্য টেকনাফ থানায় এস.আই. হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় রাখাইন জমিদার ওয়াংথিনের কন্যা মাথিন প্রতিদিন থানার সামনে কূপে পানি নিতে আসতেন। সেখান থেকেই তাদের পরিচয় এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
তবে সেই প্রেমের পরিণতি হয়নি। বিচ্ছেদের বেদনায় মাথিনের মৃত্যু হয়। সেই অপূর্ণ প্রেমের স্মৃতি হয়ে আজও টেকনাফ থানার প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আছে ‘মাথিনের কূপ’, যা দর্শনার্থীদের কাছে একটি আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক স্থান।
নাফ নদী ও সীমান্তের সৌন্দর্য
পাঁচ কিলোমিটার চওড়া নাফ নদীর ওপারেই (পূর্ব দিকে) মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। বর্তমানে এ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে দেশটির স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে। টেকনাফ সীমান্তের প্রায় ৮০ কিলোমিটারজুড়ে বিভিন্ন স্থান থেকে নাফ নদী ও মিয়ানমার সীমান্ত দেখা যায়।
তবে সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করা যায় হ্নীলা ইউনিয়নের পাহাড়চূড়ার জাদিমুরা, টেকনাফ পৌরসভার নেটং বা দেবতার পাহাড়, চৌধুরীপাড়ার ট্রানজিট জেটি এবং শাহপরীর দ্বীপ জেটি থেকে। এসব জায়গা থেকে নাফ নদী, প্যারা বন, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য এবং ওপারের মংডু শহর এক নজরে দেখা যায়।
রোমাঞ্চকর প্যারাসেইলিং
ভ্রমণপিপাসুদের জন্য কক্সবাজারে এখন রয়েছে প্যারাসেইলিংয়ের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নেয়ার সুযোগ। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে হিমছড়ি দরিয়ানগর পয়েন্টে মেরিন ড্রাইভের দক্ষিণ পাশের সৈকতে প্যারাসেইলিং করা হয়।
এখানে তিনটি প্রতিষ্ঠান পর্যটকদের জন্য এই সুবিধা দিচ্ছে। আকাশে প্যারাসুটে ভেসে নিচে উত্তাল সমুদ্র দেখার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের জন্য হয়ে ওঠে ভোলার মতো।
পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী
কক্সবাজার থেকে স্পিডবোটে মাত্র ১৫ মিনিটে পৌঁছে যাওয়া যায় মহেশখালী দ্বীপে। নদীর বাতাস, ঢেউয়ের খেলা আর দূরের পাহাড়ের সারি মন ভরিয়ে দেয়। এখানে আদিনাথ মন্দির, শুটিং ব্রিজ, বৌদ্ধ মন্দির ও লবণের মাঠ ঘুরে দেখা যায়। পাশাপাশি ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে ঘুরে সুন্দরবনের মতো অভিজ্ঞতাও নেয়া সম্ভব।
রামু: বৌদ্ধবিহার ও ইতিহাসের গল্প
ইতিহাস প্রেমীদের জন্য রামু একটি চমৎকার গন্তব্য। এখানে রয়েছে গৌতম বুদ্ধের প্রায় ১০০ ফুট লম্বা সিংহশয্যা মূর্তি। এছাড়া রাংকোট বৌদ্ধবিহার ও কেন্দ্রীয় সীমাবিহার দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। এখানেই রয়েছে কক্স সাহেবের বাংলো, যার নামানুসারেই কক্সবাজারের নামকরণ।
একই পথে রয়েছে রামকোট বনাশ্রম; যা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। এটি ৯০১ বাংলা সনে প্রতিষ্ঠিত বলে জানা যায়। জনশ্রুতি আছে, বনবাসকালে রাম-সীতা এখানে অবস্থান করেছিলেন। একই স্থানে মন্দিরের পাশাপাশি একটি বৌদ্ধ বিহারও রয়েছে, যেখানে ধ্যানমগ্ন একটি ছোট বৌদ্ধমূর্তি দেখা যায়। বলা হয়, সম্রাট অশোকের সময় দুই ধর্মের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতীক হিসেবে এই মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল।
ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় সাফারি পার্ক ডুলাহাজরায় অবস্থিত। প্রায় ২,২২৪ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই পার্কে রয়েছে বয়লাম, গর্জন, তেলশুর, চাপালিশসহ নানা প্রজাতির গাছপালা। পাশাপাশি এখানে রয়েছে বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘ, নীলগাই, হাতি, জিরাফ, জেব্রা, সাম্বার হরিণ, বাঁশভালুক, বন্যশুকর, অজগর, বনমোরগ, গয়াল, বিভিন্ন প্রজাতির বিড়াল, বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ, বানর, পাখি, ভারতীয় বনরুই, সজারু, কুদু, উল্লুক, খেঁকশিয়াল, উড়ন্ত কাঠবিড়ালি, বড়বেজী, সাপের বিভিন্ন প্রজাতি, মিঠা পানির কুমির, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, বিভিন্ন প্রজাতির কাছিম, হাজারো রকমের বিরল গাছপালা আরও অনেক প্রাকৃতিক জীবজন্তু।
পার্কের ভেতরে বিশেষ বাস বা জিপে করে ঘুরে এসব প্রাণী কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে হওয়ায় যাতায়াত সহজ, ফলে দিন দিন বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা।
যেভাবে যাবেন
বাসযোগে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব প্রায় ৪৪০ কিলোমিটার। রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালসহ কলাবাগান, সায়দাবাদ, মহাখালী ও ফকিরাপুল থেকে সারাদিনই বিভিন্ন বাস ছেড়ে যায়। সৌদিয়া, এস আলম মার্সিডিজ বেঞ্জ, গ্রীন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, এস. আলম পরিবহন, মডার্ন লাইন, শাহ্ বাহাদুর, সেন্টমার্টিন ও সোদিয়া পরিবহনসহ বিভিন্ন কোম্পানির এসি ও নন-এসি বাসে সহজেই যাওয়া যায়। ভাড়া সাধারণত ৭০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে।
আকাশ পথে যাতায়াত
আকাশপথেও সহজে কক্সবাজার যাওয়া যায়। বাংলাদেশ বিমান, নভোএয়ার, ইউএস-বাংলা ও এয়ার অ্যাস্ট্রা নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে। ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে ভাড়া প্রায় ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে।
কোথায় থাকবেন
কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য রয়েছে ৫ শতাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক তারকা মানের হোটেল, ছোট-বড় দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল এবং আরও দুই শতাধিক গেস্ট হাউজ ও রিসোর্ট রয়েছে। এখানে এক রাত থাকার জন্য ভাড়া শুরু হয় প্রায় ১ হাজার টাকা থেকে, যা সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য আবাসনের মধ্যে রয়েছে-মোটেল শৈবাল, মোটেল লাবনী, মোটেল উপল, মোটেল প্রবাল, সীগাল হোটেল, হোটেল কক্স-টুডে, রয়েল টিউলিপ সীপার্ল বিচ রিসোর্ট, হোটেল ওশ্যান প্যারাডাইস, লংবিচ হোটেল, হোটেল সি-প্যালেস ও হোটেল সি-ক্রাউন।
সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় তথ্য
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নামার সময় জোয়ার-ভাটার বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যারা সাঁতারে দক্ষ নন, তাদের গভীর পানিতে না নামাই ভালো।
নিরাপদে সমুদ্রস্নানের জন্য সি-সেইফ লাইফ গার্ডদের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া কোনো ধরনের হয়রানি বা সমস্যায় পড়লে কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবনী পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করা যাবে।