ইয়াবা পাচারে প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে কৌশল। কখনো গাড়ির গোপন চেম্বার, কখনো শরীরে বহন, আবার কখনো সমুদ্রপথে বোট ব্যবহার করে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে মাদক। তবে প্রযুক্তিনির্ভর গোয়েন্দা নজরদারি আর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এবার লবণের ট্রাকে লুকানো বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করার পাশাপাশি দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। একই সঙ্গে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ঈদগাঁও থেকে অস্ত্র-গুলিসহ ধরা পড়েছে দুই ডাকাত।
র্যাব জানায়, চট্টগ্রামে পাচারের উদ্দেশ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে একটি ট্রাকে তোলা হয় খোলা ১০০ মণ লবণ। সেই লবণের ভেতরে কৌশলে বস্তাবন্দি করে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ইয়াবা। পরে খোলা লবণের স্তূপের ভেতর থেকে একে একে বস্তা নামিয়ে খুলতেই বেরিয়ে আসে ইয়াবাভর্তি বক্স। উদ্ধার করা হয় ১ লাখ ইয়াবা।
অভিনব এই কৌশলে লবণবোঝাই ট্রাকে করে মাদক পাচারের চেষ্টা চলছিল টেকনাফ থেকে। টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের ডেইলের বিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি জব্দ করে র্যাব। এসময় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় দুই মাদক কারবারিকে। তারা হল: মোঃ এমরানুল ইসলাম (২০) ও নুর মোহাম্মদ (৪২)।
এদিকে, ইয়াবাভর্তি বক্সের ওপর লেখা রয়েছে ডায়মন্ড, ডিএমএফ। র্যাব বলছে-কয়েক ক্যাটাগরির ইয়াবা আসছে মিয়ানমার থেকে। এর মধ্যে ইয়াবা মান নির্ধারণের জন্য বক্সের ওপর চিহ্ন দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৫ এর স্কোয়াড কমান্ডার লেফটেন্যান্ট হুমাইদ হাসান হা-মীম বলেন, ইয়াবার চালান শনাক্তে পাচারকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্রতীক ও লোগো ব্যবহার করে থাকে। কখনও ডায়মন্ডের চিহ্ন, আবার কখনও তাসের কার্ডের বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করে ইয়াবার গ্রেডিং, ধরন এবং কোন চক্র বা উৎস থেকে তা এসেছে-এসব তথ্য চিহ্নিত করা হয়। এসব সংকেত ও তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সংরক্ষিত থাকে, যা গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো একটি লবণবাহী ট্রাকে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ট্রাকে ইয়াবার চালান রেখে তার ওপর লবণ চাপা দেওয়া হয়, যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চালানটির গন্তব্য ছিল চট্টগ্রাম।
তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত দ্রুত, সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তথ্যের সত্যতা যাচাই করে সফলভাবে ইয়াবার চালান জব্দ করতে সক্ষম হয় র্যাব।
র্যাব জানায়, মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত পাচারের কৌশল বদলাচ্ছে। কখনও গাড়িতে, কখনও শরীরে, আবার কখনও সমুদ্রপথে ইয়াবা পরিবহন করা হচ্ছে। তবে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির সমন্বয়ে এসব চক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি বাহিনীটির।
স্কোয়াড কমান্ডার লেফটেন্যান্ট হুমাইদ হাসান হা-মীম বলেন, ইয়াবা পাচারকারীরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। কখনও গাড়ি, সিএনজি, ট্রাক, বাস কিংবা রেলে, আবার কখনও শরীর ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করে মাদক পরিবহন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব পাচারকারীদের কার্যপদ্ধতি শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করছে। টেকনাফ-উখিয়া থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়মিত গোয়েন্দা ও আভিযানিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব অভিযানে সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ঈদগাঁও উপজেলার আলমাছিয়া পূর্ব গেইট এলাকায় স্বপ্নচূড়া মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও তাজা কার্তুজসহ দুই ডাকাতকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে বলেও জানায় র্যাব।
আটকরা হল: এনামুল হক ওরফে এনাম (২৩) ও মোঃ নুরুল আফসার রিপন ওরফে আফসার (৪০)।
র্যাব জানায়- বৃহস্পতিবার ভোররাতে র্যাব ক্যাম্পের একটি দল ঈদগাঁও থানা এলাকার আলমাছিয়া পূর্ব গেইটে অভিযান চালায়। এসময় স্বপ্নচূড়া মার্কেটের সামনে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ওৎ পেতে থাকা দুই ডাকাতকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক ও ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।