কক্সবাজারের দরিয়ানগর সমুদ্র সৈকত এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের কবল থেকে বিপন্ন প্রজাতির মা কচ্ছপের শতাধিক ডিম উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার পরিবেশকর্মী মোহাম্মদ ইউনুস স্থানীয়দের সহায়তায় ডিমগুলো উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।
শুক্রবার সেহরি ও ফজরের নামাজ শেষে দরিয়ানগর থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের সৈকতে হাঁটতে বের হন স্থানীয় পরিবেশকর্মী ইউনুস। ভোর আনুমানিক সাড়ে ৬ টার দিকে তিনি দেখতে পান, একদল কুকুর সৈকতের বালিতে কিছু একটা খুঁড়ছে। কৌতূহলবশত কাছে গিয়ে দেখেন, বালির নিচে লুকিয়ে রাখা সামুদ্রিক মা কচ্ছপের বেশ কিছু ডিম কুকুরগুলো একে একে বের করে আনছে।
এ দৃশ্য দেখে ইউনুস তাৎক্ষণিকভাবে এলাকার কয়েকজন তরুণকে সাথে নিয়ে কুকুরগুলোকে তাড়িয়ে দেন এবং অক্ষত অবস্থায় ১২০টি ডিম উদ্ধার করতে সক্ষম হন। এরপর তিনি দ্রুত কক্সবাজার জেলা বন বিভাগের স্থানীয় বনকর্মীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে মিজান নামের বন বিভাগের একজন কর্ম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উদ্ধারকৃত ডিমগুলো তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে পরিবেশকর্মী মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, গভীর রাতে নিরিবিলি ও নিরাপদ পরিবেশ পেয়ে মা কচ্ছপ সৈকতে ডিম পাড়তে আসে এবং বালি চাপা দিয়ে পুনরায় সমুদ্রে ফিরে যায়। এসব ডিম থেকে জন্ম নেওয়া বাচ্চাগুলোই কচ্ছপের বংশবৃদ্ধির প্রধান উপায়। কিন্তু সৈকতে বেওয়ারিশ কুকুরসহ নানা কারণে ডিমগুলো প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, সামুদ্রিক কচ্ছপ একটি বিপন্ন প্রাণী। সাগরের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। তাই ডিমগুলো দেখতে পেয়েই আমরা তা উদ্ধারের উদ্যোগ নিই।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত ডিমগুলো যাথাযত উপায়ে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে নির্দিষ্ট সময় পর সেখান থেকে কচ্ছপের বাচ্চা ফুটে নিরাপদে সাগরে ফিরে যেতে পারে।
ডিম উদ্ধার ও বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপকূলীয় বন বিভাগের কলতলী বিট কর্মকর্তা কেচু মারমা। ডিমগুলো আপাতত বন বিভাগের হ্যাচারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পরিবেশবাদীদের মতে, সামুদ্রিক প্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের এমন সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। কক্সবাজার সৈকতে সাধারণত জলপাই রঙের কচ্ছপ ডিম পাড়তে আসে তাই সৈকত এলাকায় কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও কাছিমের প্রজনন মৌসুমগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হলে এই বিপন্ন প্রাণীটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।