কুতুবদিয়ায় চলতি লবণ উৎপাদন শেষে মাঠে গর্তে জমানো ১২ লাখ মণ লবন এখনও পানির নীচে। ৭ দিনের প্রবল বর্ষনে তলিয়ে যায় উপজেলার ৬ হাজার একর লবন মাঠ। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের সুযোগ না মেলায় লবন জমা রাখা গর্তগুলো এখনো তলিয়ে রয়েছে বলে চাষিরা জানান।
উৎপাদন মওসুমে লবনের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অধিকাংশ চাষি ও লবন ব্যবসায়িরা মাঠে বড় বড় গর্ত করে লবন জমিয়ে রাখে বেশি দামের আশায়। গত মওসুমে প্রতি মণ লবন ১৬০ টাকাতেও বিক্রি করতে হয়েছে। একরে ৮০০ মণ লবন উৎপাদন হয়ে থাকে। অর্ধেক খরচ মিটিয়ে উৎপাদিত অন্তত একর প্রতি গড়ে ১৫০ থেকে ৩০০ মণ লবন জমা রয়েছে মাঠেই। ফলে ৬ হাজার একরে উৎপাদিত লবমের মধ্যে ১২ লাখ মণ লবন মাঠের গর্তে।
লেমশীখালী ফরিদ্যার বিল লবন মাঠের চাষি সাবেক মেম্বার নুর মোহাম্মদ জানান, লবনের দাম কম থাকায় ৩ হাজার মণ জমা রেখেছেন মাঠে। এখন দাম কিছুটা বেড়েছে কিন্তু মাঠে পানি থাকায় লবন বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছেনা।
কৈয়ারবিলের লবন ব্যবসায়ি আনছারুল করিম বলেন, 'লবনের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছিনা। ৩ বছরের প্রায় ১৫ হাজার মণ গর্তে ফেলে রেখেছি। গর্তের ওপর পানি উঠেছে। কোন কারণে ছিদ্র হলে প্রচুর লোকসান হবে।'
উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের লবন ব্যবসায়ি মৌলভী মোহাম্মদ হোছাইন ২০ হাজার মণ লবন গর্তে ফেলেছেন ন্যায্য দামের আশায়। ফুডার পাড়ার তমিজ উদ্দিন বলেন, কম দামে লোকসানে না বিক্রি করে প্রতি একরে জমির উৎপাদিত ৩০০ মণ করে লবন গর্তে ফেলেছেন চাষিরা।
উপজেলায় প্রায় ৫'শ লবন ব্যবসায়ি লবনের মধ্যসত্বভোগী হিসেবে ব্যবসা করছেন। লবন পরিবহণ, লেবার, ঘাটের হাসিল ইত্যাদি মিলে মণপ্রতি লবনে বাজার মূল্য থেকে ৬০-৭০ টাকা কেটে নেন তারা। এমনিতেই লবনের ন্যায্য মূল্য নির্ধারিত হয়নি। জমা রাখা লবনের মাঠে পানি জমে থাকায় ঘাটতি হবে। অতিরিক্ত লোকসানের মুখে চাষিরা এবার।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, পানি কমতে শুরু করেছে। দু'চার দিনের মধ্যেই লবন মাঠের জমা পানি কমে যাবে। চাষিদের দুশ্চিন্তা দূর হবে আশা করছি।