কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের জেলে পাড়ায় অগ্নিকাণ্ডে ৩৩টি বসতঘর পুড়ে গেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাত এ আগুনের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুলের ভাষ্য, রাত দুইটার দিকে দিদার জলদাসের বাড়িতে প্রথম আগুন লাগে। পরে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে এর মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরগুলোতে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোর মধ্যে রয়েছে দিদার দাস, চন্দ্র সেন, ইমালুন্দ, সিংহজলদাস, প্রেমদাস, বিকল দাস, মধু রানী, সোহান দাস, সকাল দাস, মুরলী দাস, মুরপী দাস, জিসাস দাস, সরীপ দাস, রনী দাস, ধলু, সিধাম, রুবেল, মেঘদাস, দীপারানী, রূপাল দাস, সবুজ দাস, পবিরন দাস, বুইশ্যা, অজিত, শুনু দাস, কালাগুচু, বাবুল দাস, মুন্নাবরণ, টুট্টন দাস, ওরাসেন, রুবান দাস, সুধাংশু ও ভাবতীর বাড়ি।
অগ্নিকাণ্ডে সব হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন পবিরন দাসের পরিবার। তাঁর স্ত্রী নয়ন দাস বলেন, পিত্তথলির অস্ত্রোপচারের জন্য এক লাখ টাকা ঋণ করে রেখেছিলেন তাঁরা। আগুনে নগদ টাকা ও তাঁর স্বামীর ডিগ্রির মূল সনদসহ সবকিছু পুড়ে গেছে। এখন তাঁরা নিঃস্ব।
কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ বলেন, রাত ২টার দিকে আগুন লাগলেও ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট পৌছায় ২টা ৩২ মিনিটের দিকে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আনা হয় ভোর ৫টার দিকে। এরআগেই আগুনে ৩৩টি কাঁচা-পাকা ঘর পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত চেষ্টায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। চুলার আগুন থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আলী আকবর ডেইল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আখতার কামাল সিকদার বলেন, খবর পেয়ে তিনি রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘরগুলো এক সারিতে এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৩২ থেকে ৩৩টি ঘর পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জরুরি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।