কক্সবাজার পৌরসভা ও সংলগ্ন ইউনিয়নগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ছিনতাইসহ নানা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চিরুনি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। গত দুই দিনে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে চিহ্নিত ছিনতাইকারী, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত অপরাধীসহ মোট ৬০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ছিনতাইকারী চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে বিশেষ টিম গঠন করে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের প্রথম দিনে (শুক্রবার) একাধিক মামলার আসামি ও চিহ্নিত ছিনতাইকারী মো. রফিকসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। আটক রফিকের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও আইনের নানা ধারায় একাধিক মামলা ও জিডি রয়েছে। এছাড়া এই ধাপে ৭ জন মাদক সেবনকারী, ১ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬ জনকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আটক করা হয়।
পরের দিন (শনিবার) অভিযানের ব্যাপ্তি আরও বাড়িয়ে পৌর এলাকা ও পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নগুলোতে পরিচালনা করা হয় বিশেষ অভিযান। এদিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১ জন, পেনাল কোডের ২৯০ ধারায় ২১ জন, মাদক সেবনের অপরাধে ৩ জন, বিভিন্ন অপরাধে ১৭ জন, পরোয়ানাভুক্ত ২ জন এবং নিয়মিত মামলার ১ জনসহ সর্বমোট ৪৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
শনিবার আটককৃতদের মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আসামি দীপক দাসের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ গুরুতর একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। দুই দিনের এসব অভিযানে আটক আসামিদের মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার পাশাপাশি মহেশখালীর কালারমারছড়া ও মাতারবাড়ী, উখিয়া, টেকনাফ, রামু, চকরিয়া ও ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকার অপরাধী রয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, পর্যটন নগরীর সাধারণ নাগরিক ও আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান এবং ছিনতাইসহ সার্বিক অপরাধ নির্মূলে পুলিশের এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে। আটক সকল আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।