দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশের মধ্য দিয়ে কক্সবাজার উপকূলে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষার সূচনা হয়েছে। স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বর্ষাকালের যাত্রা শুরু হয়েছে কক্সবাজার অঞ্চল থেকেই।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ইতোমধ্যে দেশের কক্সবাজার উপকূল দিয়ে প্রবেশ করেছে, যা বর্ষা মৌসুম শুরুর ইঙ্গিত বহন করে।
তিনি আরও জানান, রোববার (০৭ জুন) গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৬ থেকে ৭ দিন বৃষ্টিপাতের ধারা কমবেশি অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি সোমবারও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
বর্ষার আগমনে কক্সবাজার অঞ্চলে আবহাওয়া এখন মেঘলা ও বৃষ্টিস্নাত হয়ে উঠেছে, যা স্থানীয় জনজীবনে প্রভাব ফেলছে।
এদিকে রোববার আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত এক আবহাওয়ার সতর্কবার্তা জানানো হয়, “উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।”
এমন পরিস্থিতিতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ০৩ (তিন) নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবনী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে সরেজমিনে দেখা গেছে, সাগর বর্তমানে উত্তাল অবস্থায় রয়েছে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।
তবে এমন পরিস্থিতিতেও কিছু পর্যটক সাগরে গোসলে নামতে দেখা গেছে। যদিও পর্যটকদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইফ গার্ড কর্মীরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করছেন এবং কেবল হাঁটুসমান পানিতে থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন।
সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার প্রজেক্ট কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, বর্ষা মৌসুমের প্রভাবে সাগর এখন উত্তাল রয়েছে এবং ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে চলাচল সীমিত রাখতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সৈকতের তিনটি পয়েন্টে পর্যটকদের নিয়মিতভাবে সতর্ক করা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। লাইফ গার্ড কর্মীরা সার্বক্ষণিকভাবে সতর্ক অবস্থানে থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।