বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে রাখাইনের মংডুসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিমান হামলা চালাচ্ছে মিয়ানমার জান্তাবাহিনী। এ হামলায় অতিষ্ট হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছে বিদ্রোহী আরকান আর্মি পরিবারের সকল সদস্যদের। খবর পেযে বিজিবি অনুপ্রবেশ ঠকাতে সীমান্তে কঠোর নজরদারী ও সতর্ক পাহারা বসিয়ে টহল জোরদার করেছে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। এরই সুত্র ধরে ১১ বিজিবি সীমান্ত পার হয়ে পালিয়ে আসা এক বিদ্রোহী সদস্যকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। তার নাম থে থে সার্মা(২০)।
তিনি মিয়ানমার বিদ্রোহী গোষ্ঠী ৬ মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহনকারী কমান্ডো বলেও জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ঘেষা ৮০ কিলোমিটার সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে খবর নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে বিজিবি জানান, গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে চাপা উত্তেজনার খবর পান বিজিবি। সে কারণে তারা কঠোর সতর্কাবস্থানে। সদস্যও বৃদ্ধি করেছে তারা।
এদিকে অপরাপর বিশ্বস্থ একাধিক সুত্র মতে, ওপারের রাখাইন রাজ্যের মন্ডু জেলা সহ সীমান্তবর্তী মংডু জেলা শহর, মংডুর কাইন্ডা পাড়া, মংডুর ফাতংজা, মংডু কাওয়ার বিল ও সিকদার পাড়া সহ বিদ্রোহী আরকান আর্মি( AA) এর অবস্থান ও গমনাগমন লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সরকারী বাহিনী তথা জান্তা বাহিনী বিমান থেকে ভারী গোলা বর্ষণ করছে অনবরত। তাতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির স্বশস্ত্র যোদ্ধারা
ভারী বেকায়দায় পড়ে। কেননা এক দিকে বর্ষা মৌসূম অপর দিকে বিমান ভুপাতিত করার মতো তাদের কাছে কোন সমরাস্ত্র নেই। সে কারণে তারা প্রতিপক্ষকে ঠিকাতে না পেরে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে।
সূত্রমতে, এ কারণে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টায় আরকান আর্মির কমান্ডিং অথরিটির এক সিনিয়র নেতা তাদের সকল সৈনিকের পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে বাংলাদেশ সীমান্তে দ্রুত চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছে বলে সুত্র নিশ্চিত করেন। তারা (উপজাতিসহ রোহিঙ্গারা) এ ঘোষণা পেয়ে এখন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের দিকে যাত্রা করেছে বলেও সূত্র নিশ্চিত করেন।
এসব খবর জেনে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বিজিবি বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল থেকে সীমান্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। টহল জোরদার করেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের তুমরু পয়েন্টের বাসিন্দা সরওয়ার কামাল, বাইশফাঁড়ি পয়েন্টে শামশুল আলম ও চেরারমাঠ পয়েন্টে ছৈয়দুল বশর জানান, সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরে ব্যাপক বিমানের আওয়াজ ও বোমা নিক্ষেপের বিকট আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন তারা। তবে তারা আতংকিত নন। কারণ বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষাী সীমান্তে কঠোর অবস্খানে। তারা টহল বাড়িয়েছে সীমান্তে।
এদিকে ১১বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্ণেল মো: ফয়জুল কবির বলেন, ওপারের সংঘর্ষ তাদের আভ্যন্তরীণ। বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাসী। তবে নিজেদের ভূখন্ড নিরাপদ রাখতে এবং অনুপ্রবেশ ঠিকাতে কঠোর অবস্থান গ্রহন করে। বর্তমানে ওপার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়ছে। এছাড়া ১ জন উপজাতি নাগরিক বিজিবি আটক করে থানায় সোপর্দ করেন বর্তমানে সীমান্ত স্বাভাবিক রয়েছে। তবে রাত-দিন পাহারা জোরদার সহ কঠোর সতর্কাবস্থানে রয়েছে বিজিবি।