অস্ট্রিয়ার কাছে ৪৮ বছর আগের বিশ্বকাপ হারের প্রতিশোধ নিলো স্পেন। দাপুটে পারফরম্যান্সে বড় জয় নিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাতে শেষ ষোলয় উঠার লড়াইয়ে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল স্পেনের। একের পর এক সুযোগও তৈরি করেছিল তারা। তবে অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগারের দৃঢ়তা ও গোলপোস্টের বাধায় প্রথমার্ধে একাধিক গোল থেকে বঞ্চিত হয় স্পেন।
এর মধ্যে মার্ক কুকুরেয়া একবার জোরালো শটে বল জালে পাঠালেও আনন্দটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কর্নার থেকে বল আসার সময় স্পেনের একজন খেলোয়াড় অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগারের ওপর ফাউল করেছিলেন বলে সঙ্গে সঙ্গেই বাঁশি বাজিয়ে গোল বাতিল করেন রেফারি।
তবে গোল বাতিল হলেও আক্রমণের ধার কমায়নি স্প্যানিশরা। একের পর এক সুযোগ তৈরি করে অবশেষে ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় তারা। মার্ক কুকুরেয়ার বাড়ানো পাস ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। সেই গোলেই প্রথমার্ধে লিড নিয়ে বিরতিতে যায় স্পেন।
বিরতি থেকে ফিরেও দাপট ধরে রাখে স্পেন। একের পর এক আক্রমণে অস্ট্রিয়ার রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলা দলটি ৬৬তম মিনিটে পেয়ে যায় দ্বিতীয় গোল। আলেক্স বায়েনার নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়িয়ে ২–০ করেন পেদ্রো পোরো।
এরপর বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া না করলে জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত স্পেনের। তবুও ৮৯তম মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। দলীয় আক্রমণ থেকে মার্ক কুকুরেয়ার বাড়ানো পাস পেয়ে আনমার্ক অবস্থায় সহজেই বল জালে জড়িয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে এটি বিশ্বকাপে ওইয়ারসাবালের চতুর্থ গোল। এতে ২০১০ সালের পর প্রথম নকআউট ম্যাচ জয় পেয়েছে স্পেন।
এই জয়ে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ে স্পেনের জয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০টিতে। ১৭ ম্যাচে অস্ট্রিয়ার জয় ৪টি, আর ৩টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। আর বিশ্বকাপে ১৯৭৮ সালে দুই দলের প্রথম সাক্ষাতে ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল অস্ট্রিয়া। ৪৮ বছর পর দ্বিতীয় দেখায় সেই ক্ষত মুছে নিলো স্পেন।