কক্সবাজারের বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সংস্থাটির উদ্যোগে কক্সবাজারের পেকুয়া, রামু এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম এলাকায় এক হাজার বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ১১ বিজিবি পেকুয়া উপজেলার ৫০০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে। একইদিন কক্সবাজারস্থ ৩৪ বিজিবি রামু উপজেলা ও নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম এলাকায় আরও ৫০০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী ও রান্না করা খাবার বিতরণ করে।
নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ১১ বিজিবি জানায়, কক্সবাজারের পেকুয়ায় বলির পাড়া, আবাসন প্রকল্প ও মোরারপাড়া গ্রামের ৫০০ জনকে রান্না করা খাবার এবং ৫১০টি পরিবারের মাঝে ৫১০ প্যাকেট শুকনা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রতি প্যাকেট শুকনো খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ০৫ কেজি চাল, ০২ কেজি আলু, ০১ কেজি ডাল, ০১ লিটার সয়াবিন তেল, ০১ কেজি চিড়া, ৫০০ গ্রাম পেয়াজ, ৫০০ গ্রাম গুড়, ৫০০ গ্রাম লবণ, ১০০ গ্রাম হলুদ এবং ১০০ গ্রাম মরিচ।
নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির অন্যতম দায়িত্ব। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
এদিকে সোমবার সকালে কক্সবাজারের রামু উপজেলার পূর্ব মুক্তারকুল এবং বিকেলে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমে বানভাসি ৫০০ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছে ৩৪ বিজিবি। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাল, আলু, ডাল, সয়াবিন তেল, চিড়া, পেয়াজ, গুড়, লবণ, হলুদ, মরিচ ও গুড়ো দুধ।
কক্সবাজারস্থ ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, “বিজিবির প্রধান দায়িত্ব দেশের সীমান্ত নিরাপদ রাখা। তবে আমরা কখনোই ভুলে যাই না যে আমরা বাংলাদেশের মানুষ, আর দেশের মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সুখে-দুঃখে, ভালো সময়ে কিংবা দুর্যোগের মুহূর্তে-সবসময়ই আমরা সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি।
সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতিতে সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা যতটুকু সম্ভব এগিয়ে এসেছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।
কক্সবাজারে আমাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা এবং কক্সবাজার সদর-উভয় এলাকাতেই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, সামর্থ্যের মধ্যে থেকে যত বেশি সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং এই মানবিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখা।”