প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কক্সবাজারে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
সোমবার (১৩ জুলাই) দিনব্যাপি বন্যার্তদের মাঝে তারেক রহমানের পক্ষে থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সদর উপজেলা, রামু উপজেলা এবং উখিয়ার ১ হাজার ৫০০ পরিবারকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট বিতরণ করেন।
উপহার সামগ্রী বিতরণকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “এলাকার সাধারণ মানুষ এবং আমাদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, খাল খনন কর্মসূচি যদি সত্যিকার অর্থে পরিকল্পিতভাবে আরও কয়েক বছর ধরে অব্যাহত রাখা যায় এবং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিতে পরিণত হয়, তাহলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়, তা থেকে সাধারণ মানুষ অনেকটাই মুক্তি পাবে।
ইতোমধ্যে টেকনাফ ও রামুর মানুষ আমাকে জানিয়েছেন, খুব বেশি খাল খনন না হলেও যতটুকু কাজ হয়েছে, তার ইতিবাচক সুফল তারা ইতোমধ্যেই অনুভব করতে শুরু করেছেন।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিগত প্রায় ২০ বছরে-বিশেষ করে ২০০৬ সালের পর থেকে-দেশের নদী, খাল, বিল, নালা, জলাশয় ও নর্দমাগুলো যেভাবে অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জোরপূর্বক দখল, অবৈধ বসতি স্থাপন এবং অপরিকল্পিত ভরাটের ফলে অনেক জলাশয় আজ তাদের স্বাভাবিক অস্তিত্বই হারিয়ে ফেলেছে। ফলে পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এত দীর্ঘ সময় ধরে সৃষ্ট এই সংকট কয়েক মাসের উদ্যোগে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য অবশ্যই সময়, পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক উদ্যোগের প্রয়োজন।
আমি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানাব, তারা যে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। আমি সেই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। তবে এই কার্যক্রম আরও ব্যাপক ও গতিশীলভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে আগামী এক, দুই বা তিন বছরের মধ্যে আমরা দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পারি। দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলমুক্ত করে নদী, খাল, বিল, নালা, নর্দমা ও অন্যান্য জলাশয় পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত খাল খননের মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে। আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের কার্যকর ও ধারাবাহিক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকা-সহ সারা দেশের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে এবং সাধারণ মানুষ স্থায়ীভাবে এর সুফল ভোগ করতে পারবে।"
ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, খাল খনন কর্মসূচি আরও কয়েক বছর ধারাবাহিকভাবে চালানো গেলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে আসবে। টেকনাফ এবং রামুতেও সীমিত পরিসরের খাল খননের সুফল ইতোমধ্যে মানুষ পেতে শুরু করেছে। তবে গত প্রায় দুই দশকে নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ের ব্যাপক দখল ও ভরাটের সমস্যা কয়েক মাসে সমাধান সম্ভব নয়। তাই সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আহ্বান জানাই-এই অভিযান আরও ব্যাপক ও ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে অবৈধ দখলমুক্ত ও খাল খননের মাধ্যমে দেশের জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে মোকাবিলা করা হোক।
উপহার সামগ্রী বিতরণকালে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহিমুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।