সরকারের খাল খনন কর্মসূচির কারণে কক্সবাজারের একসময়ের মৃতপ্রায় খালগুলোতে আবারও প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে। দেশব্যাপী নদী-খাল ও জলাধার খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজারের রামু ও সদর উপজেলার সংযোগকারী ঐতিহাসিক ‘পাতলী খাল’ পুনঃখননের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হচ্ছে।
শুক্রবার (০৫ জুন) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর স্মৃতিবিজড়িত কক্সবাজার পিএমখালীর এই ঐতিহাসিক পাতলী খাল পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি।
গতকাল বেলা ১২টায় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ পাতলী খাল পরিদর্শনে যান। তিনি খালের বর্তমান চিত্র সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং সেখানে বেশ কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত করেন। পরিদর্শনের সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে লাগানো সেই ঐতিহাসিক খেজুর গাছের তলায় দাঁড়িয়ে ছবিও তোলেন মন্ত্রী। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। এমপি কাজল প্রতিমন্ত্রীকে সাথে নিয়ে পাতলী খালের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং এই অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনার নানা দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, 'আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার দেশের নদী, জলাশয় ও খাল পুনরুদ্ধার এবং পানি প্রবাহ সচল রাখতে ব্যাপক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ইতিমধ্যে আমরা অনেকদূর এগিয়ে গেছি। কক্সবাজারের এই পাতলী খালের মতো ঐতিহাসিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট খালগুলোকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। হারিয়ে যাওয়া জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধার করে পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদনকে আরও সমৃদ্ধ করা হবে।'
স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারের নদীগুলোকে বাঁচাতে হলে এই সংযুক্ত খালগুলো পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) অর্থায়নে গত ৯ মে এমপি লুৎফুর রহমান কাজল আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাতলী খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। এর আগে গত ১৬ মার্চ রামু উপজেলার উখিয়ারঘোনায় খালের খনন কাজ উদ্বোধনের মাধ্যমে কক্সবাজারে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। স্থানীয় কৃষকদের আশা, পাতলী খাল পুনঃখনন ও সংস্কার পুরোপুরি শেষ হলে এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন হবে, শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গ্রামীণ অর্থনীতি ও সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী যে ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, পিএমখালীর এই পাতলী খালটি তারই অন্যতম সাক্ষী।
কক্সবাজারের এই স্থানীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের একটি বৃহৎ জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যার প্রথম দফায় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, শুধু খাল খননই নয়, পরিবেশ রক্ষায় খালের পাড় সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।