সেন্টমার্টিন দ্বীপের মরিচ ক্ষেতের দেওয়া জালে আটকা পড়েছে এক বিশাল আকৃতিক অজগর। অজগর সাপ আটকা পড়ার ঘটনায় দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে চঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (০৫ জুন) সকাল ৬টায় সেন্টমার্টিন ছেঁড়াদ্বীপ সংলগ্ন হোটেল সিনবাদ নিকটবর্তী অংশে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শেফায়েতুল্লাহ বিন ইব্রাহিম জানান, শুক্রবার সকাল প্রায় ৬টার দিকে এক নারী মরিচক্ষেতে যাওয়ার সময় অজগরটিকে জালের মধ্যে আটকে থাকতে দেখেন। ভয় পেয়ে তিনি তাঁর বাবা মুসা আলীকে খবর দেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন গিয়ে দেখতে পান, বিশাল আকৃতির অজগরটির শরীর জালের মধ্যে আটকে রয়েছে।
ঘটনাস্থলটি সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপের পাশের এলাকা, হোটেল সিনবাদের নিকটবর্তী অংশে অবস্থিত।
শেফায়েতুল্লাহ বলেন, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল অজগরটি হয়তো কিছু খেয়েছে, তবে পরে দেখা যায় জালে আটকে যাওয়ার কারণে সেটি ফুলে আছে বলে মনে হচ্ছিল। সাপটি কোনো প্রাণী শিকার করেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার একটি ভিডিও স্থানীয় একজন শিক্ষক তাঁকে পাঠালে তিনি সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এরপর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। তিনি জানান, খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বন বিভাগের কর্মকর্তারা এসে সাপটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
নিজেও ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটি দেখেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে অজগরটিকে একটি গাছের সঙ্গে কয়েকটি রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে, যাতে সেটি পালিয়ে যেতে না পারে। সাপটি স্থানীয় বাসিন্দা মুসা আলীর বাড়ির আঙিনায় রাখা হয়েছে।
দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, 'সেন্টমার্টিন দ্বীপে আবারও একটি বিশালাকৃতির অজগরের দেখা মিলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি বার্মিজ অজগর (বার্মা পাইথন) হতে পারে। দক্ষিণ পাড়ার সিনবাদ রিসোর্ট সংলগ্ন একটি বাড়ির সীমানাপ্রাচীরে লাগানো জালে সাপটি আটকে পড়ে। পরে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে অজগরটিকে ধরে বেঁধে রাখেন। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।'
বনবিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা বশির আহমেদ খান বলেন, সরকারি কাজে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেন্টমার্টিন ছিলেন। সেই সুবাদে সেন্টমার্টিন দ্বীপে অজগরকে আটকে রেখেছে খবর পায়। বনবিভাগের লোকজন সেন্টমার্টিন গিয়ে অজগরটি উদ্ধার করেছে। সেটি সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফ আনা হবে, এরপর টেকনাফ বনে অবমুক্ত করা হবে। এখনও বলা যাচ্ছে না অজগরটি সেন্টমার্টিন দ্বীপে কোথায় থেকে এসে, কোন প্রজাতির এবং কত ফুট লম্বা। তবে জানা গেছে, অজগরটি বিশাল আকৃতির।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম অনীক চৌধুরী বলেন, দ্বীপে একটি বিশাল আকৃতিক অজগর বেঁধে রেখেছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩ টি রশি দিয়ে বাঁধা অজগরটি উদ্ধার করা হয়। এরপর বনবিভাগকে খবর দেয়া হয়, তারা এসে অজগরটি সংরক্ষণ করেছে। আর অজগরটি বনে অবমুক্ত করতে সেন্টমার্টিন থেকে বিকেল ৩টায় টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে বনবিভাগের কর্মীরা।
স্থানীয় বাসিন্দরা জানায়, এর আগেও ২০১৯ সালে একটা বিশাল আকৃতির অজগর পাওয়া গিয়েছিল দক্ষিণ পাড়া রফিক ফকিরের বাড়িতে। তখন করোনার কারণে লকডাউন থাকায় কেউ উদ্ধার করেনি। এলাকার ছেলেরা পিঠিয়ে মেরে ফেলেছিল অজগরটি।