কক্সবাজার সিটি কলেজ কলেজ ও পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জন্য পেশকৃত বাজেটের উপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ দাবি জানান।
এমপি অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না বলেন, ১৯৯৩ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর পরামর্শে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৫ একর জমি দিয়ে কক্সবাজার সিটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটি জেলার সর্বোচ্চ বেসরকারি বিদ্যাপীট। কিন্তু শুধু বেগম খালেদা জিয়া কক্সবাজার সিটি কলেজটি প্রতিষ্ঠা করায় বিগত ১৭বছরে এ কলেজের কোন উন্নয়ন হয়নি। তিনি বলেন, এ কলেজে বর্তমানে ১২ হাজার শিক্ষার্থী, ১৬৫ জন শিক্ষক, ৪৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। এমপি অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না কলেজটি জাতীয়করণের দাবি জানান। এ কলেজটি জাতীয়করণ করা হলে ১২ হাজার শিক্ষার্থীর পাশাপাশি কক্সবাজারবাসীও ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়া, ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বরে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পেকুয়াতে শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ স্থাপন স্থাপন করেছেলিন। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ সরকারীকরণ করা হলেও পেকুয়ার এ কলেজটি শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে হওয়ায় এটি সরকারীকরণ করা হয়নি। এমপি অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না কলেজটি জাতীয়করণের দাবি জানান।
পেশকৃত বাজেটকে একটি গণমূখী, কল্যানকর ও বাস্তবমুখী বাজেট হিসাবে উল্লেখ করে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না বলেন, এ বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য কমানো হয়েছে। এজন্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের
দাম বাড়েনি। এতে জনগণ স্বস্তি প্রকাশ করেছে। এ বাজেটে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১দফার প্রতিফলন ঘটেছে। বাজেটে নারীর ক্ষমতায়ন, যুবকদের কর্মসংস্থানের প্রতিও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না বলেন, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সেবা খাতে কিডনি রোগীদের ডায়ালসিস করার ব্যয় কমানো এবং হার্টের রোগীদের জন্য রিং এর মূল্য অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। যা জনসাধারণের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে তা থেকে মূল্য স্ফীতি ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করাকে ঘোষিত বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে উল্লেখ করে সেটা নিশ্চয়ই সরকার করতে পারবে বলে অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না এমপি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে কর ব্যবস্থাপনা ডিজিলাইটেশন, হয়রানি মুক্ত সেবা প্রদান ইত্যাদি সাধারণ মানুষ প্রশংসাভরে গ্রহণ করেছে। অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না এমপি তাঁর বক্তব্যে সুন্দর ও গণমূখী বাজেট দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া, আলোচিত রামিসা হত্যা মামলা দ্রুততম সময়ে রায় ঘোষণা করায় আইনমন্ত্রী ও বেনজীর আহমদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না তাঁর বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ২৪ এর জুলাই আন্দোলন, বিগত ১৭ বছরে নিহত নেতা-কর্মী, সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ ও আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।