ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিন প্রশ্নোত্তরে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, গত আওয়ামী লীগের ১৬ বছর সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ চোরাচালান, আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ ও অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য ছিল। দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে সীমান্ত সব অপরাধ নির্মূলে সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে?
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতদের চোরাচালান ও অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে এবং অপরাধীদের তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তার জন্য নিয়মিত ‘জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম’ পরিচালনা করা হচ্ছে। মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণেরও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং অনুরূপভাবে ভারত সীমান্তে স্পর্শকাতর স্থানেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তায় গৃহীত পদক্ষেপ বিষয়ে জানাতে তিনি আরও বলেন, দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে এবং সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অপরাধ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সমন্বিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ফেন্সিডিলসহ সব ধরনের মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশ বন্ধে বিজিবি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার মোতাবেক ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্ত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা এবং যেকোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কার্যকরভাবে প্রতিহতের লক্ষ্যে দুর্গম ও স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে নতুন বিওপি-টিওবি নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন বিওপি-টিওবি নির্মাণের ফলে বিজিবির বিওপিসমূহের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং টহলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অতি সংবেদনশীল এলাকায় ইতোমধ্যে ‘স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম’ স্থাপন করা হয়েছে। দুর্গম পার্বত্য সীমান্তে সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, যার ফলে বিজিবির টহল দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে যেকোনও সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সক্ষম হচ্ছে।