কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তরুণদের অংশগ্রহণে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক সংহতি জোরদারে ‘সংহতি সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) টেকনাফের ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের যুব শান্তি ক্যাফেতে ‘শান্তি ও সামাজিক সংহতির জন্য একসঙ্গে’ প্রতিপাদ্যে এ আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে তরুণদের নেতৃত্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সংহতি উদ্যোগ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ২৪ নম্বর ক্যাম্পের যুব শান্তি-নির্মাতা মো. আদনান ও অ্যাকশনএইডের শানজিদা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শেডের প্রকল্প কর্মকর্তা নাজির হোসেন। পরে ২৪ নম্বর ক্যাম্পের যুব শান্তি-নির্মাতা আব্দুর রহমান ও বিবি জান শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সংহতি নিয়ে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৪ নম্বর ক্যাম্পের ক্যাম্প-ইন-চার্জ (সিআইসি) খানজাদা শাহরিয়ার বিন মান্নান। তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সংহতি তৈরিতে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রাহামা আক্তার। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন ২৪ নম্বর ক্যাম্পের হেড মাঝি মো. আলম। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্য মঈন উদ্দীন।
বক্তারা বলেন, ভিন্ন সম্প্রদায় ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে সামাজিক বিভাজন কমানো সম্ভব। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
অনুষ্ঠানে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সংহতি গড়ে তুলতে তরুণদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন অংশগ্রহণকারীরা।
পরে যুব শান্তি-নির্মাতা মো. ইরফাতের নেতৃত্বে শান্তি ও সামাজিক সংহতির অঙ্গীকারনামা পাঠ করা হয়। এতে পারস্পরিক সম্মান, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।
অনুষ্ঠানে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও শেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন এম্বোল্ডেন বাংলাদেশ, আমাল ফাউন্ডেশন ও ওয়াইএএসআইডের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্থানীয় ও রোহিঙ্গা তরুণদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি, বৈচিত্র্যকে উদযাপন এবং পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরিই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তরুণদের নেতৃত্বে এ ধরনের উদ্যোগ দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক সংহতি জোরদারে ভূমিকা রাখবে।
আলোচনা, অঙ্গীকারনামা পাঠ ও বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠানটি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ও অ্যাকশনএইড এর সহায়তায় এবং শেডের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচির মূল বার্তা ছিল- ‘বৈচিত্র্যকে উদযাপন, জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংযোগ তৈরি, শান্তি প্রতিষ্ঠা।’