উপমহাদেশের খ্যাতিমান ইতিহাসবিদ, চট্টগ্রামের কৃতীসন্তান অধ্যাপক ড. আবদুল করিমের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র ও ইতিহাসের পাঠশালা (দি একাডেমি অব হিস্ট্রি বাংলাদেশ)-এর যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধন এবং ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. আবদুল করিমের জীবন ও কর্মের ওপর গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম। প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুহিবুল্যাহ সিদ্দিকী। প্রধান আলোচক ছিলেন বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবাইদুল করিম।
সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ, অধ্যাপক ড. সিদ্দিক আহমদ চৌধুরী। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের উপদেষ্টা এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী সমিতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি লায়ন মোহাম্মদ শওকত আলী নূর, লেখক লায়ন দুলাল কান্তি বড়ুয়া, চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইতিহাসবেত্তা সোহেল ফখরুদ-দীন, অধ্যাপক আবু তালেব বেলাল, অধ্যক্ষ মুসা সিকদার, অধ্যক্ষ আবু তৈয়ব, অধ্যক্ষ আবদুল কাদের, অধ্যাপক বশির উদ্দিন কনক, অধ্যাপক মোস্তফা শামীম আল যুবায়ের, শিক্ষাবিদ ড. সবুজ বড়ুয়া শুভ, বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলাম নবী, মো. বেলাল উদ্দিন, এইচ এম সোহেল, ফরিদুল আলম চৌধুরী, আহমদ ইমরান আজিজ, মো. কামাল উদ্দিন, মাওলানা জহুরুল আনোয়ার, প্রফেসর জসীম উদ্দিন খান, মুহাম্মদ মুদ্দাসিসর হাসান, কবি কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার, মোহাম্মদ জসীমুল হক চৌধুরী, মোহাম্মদ হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, অধ্যাপক ড. আবদুল করিম বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ। মধ্যযুগীয় বাংলা, চট্টগ্রামের ইতিহাস, মুসলিম শাসনামল, সমাজ-সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক ইতিহাস বিষয়ে তাঁর গবেষণা আজও গবেষক সমাজের জন্য নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য উৎস। তিনি ইতিহাসচর্চায় তথ্যনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা এবং মৌলিক গবেষণার যে ধারা প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।
বক্তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষক, গবেষক ও ইতিহাসসাধক হিসেবে ড. আবদুল করিমের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চায় চিরস্মরণীয়। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ জাতীয় ইতিহাস গবেষণার অমূল্য সম্পদ। নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাসচর্চার আগ্রহ সৃষ্টি এবং দেশের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে তাঁর কর্ম ও আদর্শ বিশেষভাবে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অধ্যাপক ড. আবদুল করিমের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শেষে তাঁর আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হয়।