কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানো হলে থামেনি পর্যটকদের উল্লাস। উত্তাল ঢেউয়ে গা ভেজাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বেড়েছে পর্যটকদের ভিড়। তবে নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন লাইফগার্ড কর্মীরা।
শনিবার (০৪ জুলাই) কক্সবাজারে কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, কখনও তীব্র রোদ। ভ্যাপসা গরম আর উত্তাল সাগর উপেক্ষা করেই সাপ্তাহিক ছুটিতে সমুদ্রসৈকতে ছুটে এসেছেন ভ্রমণপিপাসুরা। শুক্রবারের মতো শনিবারও দিনব্যাপি পর্যটকরা কেউ সমুদ্রস্নানে, কেউ টিউবে ভেসে ঢেউয়ের সঙ্গে মেতে উঠেছেন।
ঢাকার বনানী থেকে আসা পর্যটক হারুন-উর-রশিদ বলেন, “সমুদ্র উত্তাল হলেও আবহাওয়া দারুণ। ছুটির দিন হওয়ায় পর্যটকের চাপও অনেক বেশি। সৈকতে কিছু সময় কাটিয়ে পরে মেরিন ড্রাইভ ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”
নোয়াখালীর সন্দ্বীপ থেকে আসা পর্যটক তানভীর ইসলাম বলেন, “সমুদ্র উত্তাল থাকলেও এর সৌন্দর্য ও আকর্ষণ আলাদা। তিন নম্বর সতর্কসংকেত থাকলেও মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে সমুদ্র উপভোগ করতে আসে। আমি সন্দ্বীপের মানুষ, তাই উত্তাল সাগর নতুন নয়। তবে নিরাপত্তা মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজারকে ঘিরে মানুষের যে উচ্ছ্বাস, সেটা সত্যিই ভালো লাগে।”
আরেক পর্যটক ইব্রাহিম কাদের বলেন, “পরিবার নিয়ে সমুদ্রসৈকতে এসে খুব ভালো লাগছে। উত্তাল সমুদ্রের কারণে ভেতরে না গিয়ে নিরাপদ দূরত্বে থেকেই সময় কাটাচ্ছি। তিন নম্বর সতর্কসংকেত থাকায় ঝুঁকি না নিয়ে সবাইকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানাই।”
আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় জানানো হয়- উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসগার ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘণীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ০৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে বর্ষা মৌসুমেও পর্যটকের উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সৈকতপাড়। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায় বেড়েছে বেচাকেনা।
জেড স্কী ব্যবসায়ী মো. সাদ্দাম বলেন, “ছুটির দিন হওয়ায় সৈকতে পর্যটকের উপস্থিতি অনেক বেশি। তবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় সবাইকে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে চলা উচিত। পর্যটকরা নিরাপদে ঘুরতে পারলে আমাদের ব্যবসাও ভালো হবে।”
ফটোগ্রাফার জয়নাল আবেদীন বলেন, “বর্ষাকাল হওয়ায় ব্যবসা এখন মোটামুটি চলছে। পর্যটক এলে ব্যবসা ভালো হয়, আর পর্যটক কম থাকলে আয়ও কমে যায়। আমরা আশা করছি, আগামী দিনগুলোতেও পর্যটকের উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে।”
সমুদ্র উত্তাল থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টাঙানো হয়েছে লাল পতাকা। আর লাইফগার্ডের নিরাপদ সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে লাল-হলুদ পতাকার মাধ্যমে।
সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র সদস্য মো. সেলিম সময় সংবাদকে বলেন, সমুদ্র বর্তমানে উত্তাল থাকায় সৈকতের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। তাই সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টে লাইফগার্ডরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপদ গোসলের জন্য রেড-ইয়েলো পতাকার মধ্যে থাকতে এবং লাল পতাকা চিহ্নিত বিপজ্জনক এলাকায় না নামতে পর্যটকদের অনুরোধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি হুইসেল ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে সবাইকে নিরাপদ এলাকায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে লাইফগার্ডের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছে সৈকতকর্মী, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা প্রশাসন।