উখিয়া উপজেলার দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট নিরসনে আধুনিক সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) উখিয়া টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী কুতুপালং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সংলগ্ন এলাকায় সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন।
এ সময় উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আকতার , জনস্বার্থ প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী জিএম মুক্তাদির সহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ভৌগোলিক, পরিবেশগত ও মানবিক দিক থেকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা উখিয়ায় বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ৬৩ হাজার স্থানীয় বাসিন্দার পাশাপাশি প্রায় ১৩ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ২৬টি আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে ফিকাল স্লাজ ও সলিড ওয়েস্ট ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হলেও স্থানীয় জনগণের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সমন্বিত ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
সচেতন নাগরিক সমাজ অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ, মাটি ও পানিদূষণ, দুর্গন্ধ, রোগজীবাণুর বিস্তার এবং কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতির মতো সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে একটি আধুনিক ও স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
এ প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী উখিয়ায় ফিকাল স্লাজ, সলিড ওয়েস্ট ও গ্যাসিফিকেশন ইউনিটসমৃদ্ধ একটি আধুনিক ইন্টিগ্রেটেড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ, কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই এবং দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার প্রেরণ করেন। তার এ উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, উখিয়ার পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে একটি আধুনিক সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত প্রয়োজন।
এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে উখিয়ায় একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।