ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় কক্সবাজারের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার পেঁপে ক্ষেতসহ বিভিন্ন শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জুমখোলার সখের পেঁপে ক্ষেতগুলো এখন প্রাণহীন দাঁড়িয়ে রয়েছে। সবুজ-যৌবনে ভরপুর ক্ষেতগুলো যেন এখন এক একটি মরা গাঁঙ।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ঘুমধুম, সোনাইছড়ি, বাইশারী, সদর ও দৌছড়ি—এই ৪ ইউনিয়নের কৃষিজমি কয়েক দিন ধরে পানি ও কাদায় ডুবে থাকায় পেঁপে গাছগুলো মরে যাচ্ছে। কোথাও গাছ উপড়ে পড়ে আছে, কোথাও কাণ্ডে পচন ধরেছে, আবার কোথাও ফলসহ পুরো গাছ লালচে হয়ে শুকিয়ে গেছে। পেঁপের পাশাপাশি কলা, বেগুন, মরিচ, ঢেঁড়স ও শসার মতো মৌসুমি সবজির ক্ষেতও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যাংক ঋণ ও চড়া সুদে ধারদেনা করে তারা এই চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় সব আশা নিমিষেই শেষ হয়ে গেছে।
উত্তর করলিয়ামুরা গ্রামের কৃষক মো. ছৈয়দ আলম কৃষি বিভাগের পরামর্শে কক্সবাজার থেকে উন্নত জাতের পেঁপের চারা এনে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেছিলেন। জমি তৈরি, চারা, সার ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে তাঁর প্রায় দেড় লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছিল। গাছে চমৎকার ফলনও এসেছিল; কিন্তু টানা বর্ষণের পানিতে তাঁর দুই শতাধিক পেঁপে গাছ ফলসহ নষ্ট হয়ে যায়। একটি পেঁপেও বাজারে তুলতে পারেননি তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ছৈয়দ আলম বলেন, 'ঋণ ও ধারদেনা করে পেঁপে চাষ করেছিলাম। ভেবেছিলাম বিক্রির টাকা দিয়ে ঋণ শোধ করে সংসার ভালোভাবে চালাব। কিন্তু বন্যা সব শেষ করে দিল। এখন কীভাবে ঋণ পরিশোধ করব আর কীভাবে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেব, তা জানি না। সরকার সহযোগিতা না করলে আমাদের বাঁচার পথ থাকবে না।'
একইভাবে ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু ফাত্রাঝিরি গ্রামের কৃষক মো. আবদুর রহিম চার কানি জমিতে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। বাগান প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তিনি মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পেরেছেন। সর্বস্ব হারিয়ে এখন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি চালু করা না হলে অনেকেই কৃষিকাজ চিরতরে ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এনামুল হক জানান, পাহাড়ি ঢল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় উপজেলার অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ একর পেঁপে চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক গাছ মারা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে ইতোমধ্যে জেলা অফিসে পাঠানো হয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের পুনর্বাসন ও সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।