মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, এডভোকেট
স্থানীয় সরকার নির্বচনের আইন-বিধি সংশোধন বিষয়ে ২১জুলাই দীর্ঘ বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন(ইসি) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের আইনী সুযোগ রাখতে সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর সংশোধনের সুপারিশ চুড়ান্ত করেছে। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিক এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। ঋণখেলাপিদের জামিনদারের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল,ভূমি কর,ওয়াসা সহ এ ধরনের সেবা প্রাদানকারী সংস্থার বিল খেলাপিদের এবং লাভজনক পদে থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রাথী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচিত হবেন মর্মে ইসির পক্ষ থেকে সুপারিশ করে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে বলে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। রাজনৈতিক দলের প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে না সরকারের পূর্বঘোষণা সর্ব মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। স্নাতক ডিগ্রী না থাকলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যন পদে প্রার্থীতা কেন অযোগ্য বিবেচিত হবে না মর্মে দেশের উৎসাহী নাগরিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত রূল ইস্যু করেছেন মর্মেও পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন যেমন সুপারিশ করতে পারে দেশের যে কোন নাগরিকও এ সম্পর্কে নিজেদের মতামত,দাবী বা সুপারিশ আদালতের মাধ্যমে বা পত্রপত্রিকার মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেন। প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব চিন্তা ও মতামত প্রকাশ করা সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার।
এই বছরের শেষের দিকে বা আগামী বছরের প্রথম দিকে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন সহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে বলে সরকারের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। দেশের প্রবীণ,অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল নাগরিকদের পক্ষ থেকেও আরো অতিরিক্ত কিছু অতি জরুরী সুপারিশ ও মতামত কারণসহ ব্যাপকভাবে নিজেদের মধ্যে সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে । ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গ্রাম আদালত আইন অনুযায়ী গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান বা বিচারকের দায়িত্ব পালন করতে হয়, যাতে ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলায় নিরপেক্ষভাবে রায় প্রদানের মত বিচারিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট আইনগুলো পড়ে বুঝার মত শিক্ষাগত যোগ্যতা অবশ্যই ইউপি চেয়ারম্যানের থাকা একান্ত আবশ্যক। অন্যথায় যৌক্তিকভাবে গ্রাম আদালতে বিচারপ্রার্থী মানুষ ন্যায় বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে। দেশের দরিদ্র মানুষগুলোকে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিনা খরচে আইনী সহায়তা প্রদানের জন্য সরকার তৎপর ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত চেয়ারম্যানরাও বেশ প্রাসঙ্গিক। তাই লিগ্যাল এইড সংক্রান্ত আইনগুলোও ইউপি চেয়ারম্যানের পড়ে বুঝার আবশ্যকতা আছে। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে বা বিশেষ কারণে ইউপি সদস্যদেরও অনেক সময় চেয়ারম্যানের উক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই ইউনিয়ন পরিষদের ও পৌরসভার চেয়ারম্যান,মেয়র,মেম্বার বা কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অন্ততঃপক্ষে এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা খুব জরুরী বিধায় তা প্রার্থীতার অন্যতম শর্ত হতে পারে।
মাদকাসক্ত,মাদক মামলায় ও দুদকের দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্থ হয়ে আদালত কর্তৃক দন্ডিত আসামীকে স্থানীয় সরকারের সকল পদে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচনা করার শর্ত আরোপ করা ভবিষ্যত বংশধরদের স্বার্থে ও দেশের স্বার্থে একান্ত জরুরী। সরকার বা ক্ষমতাসীন মহল ইচ্ছা করলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যে কোন নির্দোষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মিথ্যা মামলা দায়ের ও অভিযোগপত্র দাখিলের ব্যবস্থা করতে পারে তা বিগত ১৭/১৮ বছরে জনগণ অসহায়ভাবে দেখেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, দুদক, বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা সহ রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানকে অতীতে দলীয়করণ করা হয়েছিল, যার ফলে জনসমক্ষে তাদের নিরপেক্ষতা,সততা ও নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। তাই ফৌজদারী মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামী হওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য করা আইনতঃ ও ন্যায়তঃ সমীচীন হবে না। অতীতে দেখা গেছে মাদকাসক্ত বা মাদক ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দলীয়ভাবে নেতা মনোনিত করা হলে তার সাথে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরাও নেতার কাছের মানুষ হওয়ার জন্য মাদকাসক্ত হয়ে যান। শত বছরের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় এই উপমহাদেশে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণ সমাজ পোষাকেআশাকে,চলনেবলনে নেতা-নেত্রী,অভিনেতা-অভিনেত্রীকে অনুসরণ,অনুকরণ করেন। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতার অন্যতম শর্ত হিসেবে মাদকাসক্ত নন মর্মে ডোপটেস্ট রির্পোট দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা জরুরী। এতে করে দেশে মাদকসেবন ব্যাপকভাবে নিরুৎসাহিত হবে বলে বিজ্ঞ মহল আশাবাদী। স্মরণ রাখতে হবে দেশে মাদকসেবন বন্ধ হলে মাদক ব্যবসা,মাদক আমদানীও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। লাখ লাখ মাদকের মামলা আদালতের কাঁধে বোঝা হয়ে থাকবে না। দেশে মাদক পাচার বন্ধ করার জন্য শত কোটি টাকা খরচ করে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে না ।