মোটে ৫৭ রানের লক্ষ্য। বাংলাদেশ যে জিতবে তাতে সন্দেহের অবকাশ বলতে গেলে ছিলই না। দেখার বিষয় ছিল এই রানের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া কয়টি উইকেট নিতে পারে। একটি উইকেট ফেলতে পেরেছে তারা। ফলে ৯ উইকেটে জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ।
এটি যেকোনো ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়। অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশ যে ৮টি ম্যাচ জিতেছে তার একটি কার্ডিফে, একটি টেস্টসহ ৪টি টি-টোয়েন্টি ও ২টি ওয়ানডের সবগুলোই মিরপুরে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ ৭ ওয়ানডের সব কটিতেই বড় ব্যবধানে হেরেছিল। দুটি টেস্ট হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে।
বাংলাদেশের জয়টির গুরুত্ব বোঝা যায় শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে। ১৯৮২ সালে প্রথম টেস্ট খেলা শ্রীলঙ্কা এখনও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জিততে পারেনি। অজিদের ডেরায় ১৫টি টেস্ট খেলে ১৩টিতেই হেরেছে তারা। অস্ট্রেলিয়ায় পাকিস্তানের জয় নেই এই একবিংশ শতাব্দীতে।
ডারউইনে লক্ষ্য দিয়ে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ তামিমের উইকেট তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজলউডের ভেতরে ঢোকা বলে শূন্য রানে স্টাম্প হারান প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান। এরপর অজি বোলাররা আর বড় চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক অনায়াসেই বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন। চার মেরে জয় নিশ্চিত করা মুমিনুল ৩৯ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন। সাদমান ৪২ বলে ৪ চারে করেন ২৫ রান।
বাংলাদেশের লক্ষ্য বড় হতে না দেয়ার মূল নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ৬৬ রানে ৫ উইকেটের স্পেলেই ২৮৪ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিতে মূখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন হাসান মাহমুদ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট নেওয়ার সুবাদে হাসানই হয়েছেন ম্যাচসেরা। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ১৪ রান করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ৯৪টি বলও মোকাবিলা করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশ দাঁড় করিয়েছিল ৪২৬ রানের বড় সংগ্রহ।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়ে উঠেছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। এই কাঁটা নামান হাসান মাহমুদ। তার নিচু হয়ে যাওয়া বল গ্রিনের ব্যাটে লেগে স্টাম্পে চলে যায়। নবম ব্যাটার হিসেবে গ্রিন আউট হন লড়াকু ১০৪ রানের ইনিংস খেলে। তিনি আউট হওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার লিড ছিল ৫০ রানের। নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজলউডের শেষ উইকেট জুটি আর ৬ রান করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ দিন শুরু করেছিল ৬৭ রানে পিছিয়ে থেকে। তৃতীয় দিনই গুরুত্বপূর্ণ ৪টি উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল তারা। গ্রিন লড়াকু ইনিংস না খেললে অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ব্যবধানেই হারতে পারত। গ্রিনের সঙ্গে চতুর্থ দিন শুরু করেছিলেন আলেক্স ক্যারে।
ক্যারে দিনের শুরুতেই ৩০ রানে বিদায় নেন। এরপর বো ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সও অল্প রানের ব্যবধানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। তাতে ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় পড়ে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু গ্রিন একপ্রান্ত ধরে রেখে ইনিংস হার এড়িয়ে দলকে লিড এনে দেন। মিচেল স্টার্ক ১৮ ও লায়ন ১৫ রান করে তাকে সঙ্গ দেন।