২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার শহিদ ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ এবং তার কবর জিয়ারত করতে দুই দিনের সরকারি সফরে আজ বুধবার (১৫ জুলাই) কক্সবাজার আসছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, এমপি। নবঘোষিত ‘জুলাই শহীদ দিবস’ (১৬ জুলাই) উপলক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার তিনি পেকুয়ায় শহিদের কবর জিয়ারতের পাশাপাশি চট্টগ্রামে ওয়াসিমের শাহাদতস্থলে স্মৃতিফলকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সরকার ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত রোববার নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন জানান, ১৬ জুলাই আবু সাঈদ ও ওয়াসিম আকরামের মতো অকুতোভয় তরুণদের হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্র-জনতার আন্দোলন দেশব্যাপী তীব্র আকার ধারণ করে এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এই আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতেই দেশব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। একই মর্যাদায় এদিন কক্সবাজারের পেকুয়ায় শহিদ ওয়াসিমের বাড়িতে গিয়ে সমাধীতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং চট্টগ্রামে স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে বিমানযোগে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রতিমন্ত্রী। রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছে তিনি সরাসরি সার্কিট হাউসে যাবেন এবং সেখানে রাত্রিযাপন করবেন।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৮টায় কক্সবাজার সার্কিট হাউস থেকে সড়কপথে পেকুয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। সকাল ১০টায় পেকুয়ায় শহিদ ওয়াসিমের বাড়িতে পৌঁছে তিনি শহিদের কবর জিয়ারত করবেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে একান্ত সাক্ষাৎ ও সমবেদনা জ্ঞাপন করবেন।
পেকুয়ায় কর্মসূচি শেষে বেলা ১১টায় তিনি সড়কপথে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন। দুপুর ১টায় চট্টগ্রামের মুরাদপুরে শহিদ ওয়াসিমের শাহাদতস্থলে একটি স্মৃতিফলকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। এরপর দুপুর দেড়টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৌঁছে নামাজ ও বিশ্রামের পর আড়াইটায় কাজীর দেউড়ি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন প্রতিমন্ত্রী। দিনব্যাপী ব্যস্ত কর্মসূচি শেষে ওইদিন রাত ৯টা ২৫ মিনিটে বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করবেন তিনি।
এই সফরে প্রতিমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দীন আহমেদ এনডিসি, তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে আরও বেশকিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১৫ জুলাই ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা স্মরণে ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ বা ‘প্রতিরোধের সূচনা’ নামে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ উপলক্ষে আর্মি স্টেডিয়ামে প্রতিবাদী সমাবেশ এবং ২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক প্রতিরোধের স্মরণে বিশেষ সমাবেশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালনের মাধ্যমে এই স্মরণ কর্মসূচির মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ওইদিন রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন আন্দোলনে শহিদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হবে।